শুধু পরীক্ষা নির্ভর সনদ সর্বস্ব শিক্ষা আর নয়

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বর্তমান সরকার পরীক্ষা নির্ভর সনদ সর্বস্ব ও নিরানন্দ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে। শিক্ষা হবে আনন্দময়। শিক্ষার্থীদের শুধু সারাক্ষণ পড়াশুনা, কোচিং আর পরীক্ষা নিয়ে থাকলে হবে না। শুধু পরীক্ষা নির্ভর সনদ সর্বস্ব শিক্ষা আর নয়।  আমরা চাইছি শিক্ষার্থীরা দক্ষ যোগ্য মানুষ হোক। সে কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় উত্তর বাংলা কলেজে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দীপু মনি বলেন, আমরা আমাদের পড়াশুনার ধরণটা একটু বদলাতে চেষ্টা করছি। অনেক বাবা-মা আমার উপরে একটু গোষ্যা হচ্ছেন। ভাবছেন পরীক্ষা কমিয়ে দিলে ছেলে-মেয়েরা ভালো শিখবে না। শুধু পরীক্ষা দিতে তো ভালো শেখা হয় না। সারা পৃথিবীর সব গবেষণা বলছে যেখানে যে দেশে শিক্ষার মান যত বেশি উন্নত, যেখানে পরীক্ষার চাপ তত কম। পরীক্ষা কম হলেও মূল্যায়ন ঠিকই হয়। আমরা এখন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যায়ন করছি। এই মূল্যায়ন প্রতিদিন হতে থাকবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ, যোগ্য ও ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি হবার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,  প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের সাথে দক্ষতা শিখবে। তারা সফট স্কিল শিখবে। তাদের যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। সমস্যা চিন্হিত করে সমাধান করা, সুক্ষ্ম চিন্তা, নেতৃত্ব প্রদান এবং দলগতভাবে কাজ করা ও সহযোগিতার দক্ষতার বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের শিখতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দেশপ্রেম, সহমর্মিতা থাকবে হবে। সবমিলিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষার্থীদের দক্ষ যোগ্য এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।

তিনি আরো বলেন, সবাইকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। শতকরা ৯৯ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে। এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ঝড়ে পড়ার হার অনেক কমেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষার সকল পর্যায়ে মান অর্জনে আমরা কাজ করছি। গবেষণা ছাড়া সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। গবেষণায় ইতিবাচক ফল এলে আর্থিক সক্ষমতা বুঝে জাতীয়করণ করা হবে।

দীপু মনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যরা কোনো ধরনের সুপারিশ ছাড়াই এমপিওভুক্ত হবেন। আর যারা নীতিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন তারা কোনোভাবেই এমপিওভুক্ত হবেন না। এসময় তিনি উত্তর বাংলা কলেজে ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বক্তব্য শেষে শিক্ষামন্ত্রী ‌‘নূরলদীনের সারাজীবন’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মশিউর রহমান, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গবেষক ড. মোজাম্মেল হক, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার প্রমুখ।

এর আগে সকালে এক দিনের সফরে লালমনিরহাট আসেন শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী। উত্তর বাংলা কলেজের বেশ কিছুই উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন তারা। পরে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে এরপর সড়ক পথে দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে লালমনিরহাট ত্যাগ করেন।

Leave a Comment